হবিগঞ্জে বোরো ধানে ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা

Published On Apr 07, 2022

হাওর বেষ্টিত একটি জেলা হবিগঞ্জ। জেলার ৯টি উপজেলার বেশিরভাগ মানুষই কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। যদি কোন বছর কৃষির উপর আঘাত আসে অথবা কৃষক সোনার ফসল ঘরে তুলতে না পারে তা হলে হাজারো পরিবারে নেমে আসে দৈন্য দশা।

গত কয়েক বছর কৃষকেরা সোনার ফসল ঘরে তুলতে পারলেও এবার পুরো মৌসুমজুড়ে বৃষ্টি না হওয়া, সেচ পানি সংকট এবং তীব্র খরার কারণে বোরো জমির ফসল নষ্ট হতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে জেলার বিভিন্ন হাওরে চৈত্র মাসের মাঝমাঝি সময়ে ধানের চারা থেকে বের হওয়া শীষে চিটা দেখা দিয়েছে। অনেক জমিতে আবার ধানের চারাগুলো শুকিয়ে গিয়ে খড় আকার ধারণ করেছে। যে কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন সাধারণ কৃষকেরা। যদিও হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এসব সমস্যার জন্য তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হবে না। তারা বিষয়টি সাংর্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন।

সরেজমিনে জেলার বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, অনেক জমিতেই পানি না থাকার ফলে মাটি শুকিয়ে গিয়ে সাদা হয়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। লাল রং ধারণের পাশাপাশি শুকিয়ে মরে যাচ্ছে ধানের চারাগুলো। পানি শূন্যতার কারণে নিচু জমিগুলোতেও আসছে না শীষ। আবার যে গুলোতে আসছে সেগুলোও চিটা হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে ২৮ জাতের ধানেই সবচেয়ে বেশি চিটা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। তারা বলছেন, একদিকে বৃষ্টিপাত হচ্ছে না অন্যদিকে দিন দিন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামছে। যে কারণে চৈত্র মাসে পাম্প দিয়েও পানি উঠছে না। ফলে এবার ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন তারা। তবে ইতোমধ্যে জেলায় কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার কোন সঠিক হিসাব নেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছে। হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বোরো মৌসুমে হবিগঞ্জ জেলায় ১ লাখ ২২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। মোট উৎপাদন লক্ষামাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন।

বানিয়াচং উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের কৃষক লাদেন চৌধুরী জানান, পুরো বানিয়াচং উপজেলাটি একটি হাওর বেষ্টিত এলাকা। জেলার সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হয় এ উপজেলায়। বৃষ্টি না হওয়া, সেচ পানি সংকট ও তীব্র খড়ার কারণে এবার হাওরের জমি নষ্ট হতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ২৮ জাতের অনেক জমিতে শীষ বের হওয়ার সাথে সাথে চিটা দেখা দিচ্ছে। আবার কোন কোন জমিতে পানি না থাকায় ধানের চারা মরে যাচ্ছে। তাই এবার ব্যাপক ক্ষতি শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।

একই গ্রামের শেখ মুরাদ আহমেদ রাজিব জানান, আমাদের জমিগুলো এক ফসলে। সারা বছরের মধ্যে একবারই জমিগুলোতে ধান চাষ করা হয়। অন্যান্য বছর সোনার ফসল ঘরে তুলতে পারলেও এবার শঙ্কায় দিন কাটছে তার। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমার বেশ কয়েক ক্ষের জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। যেখানে ক্ষের প্রতি ২০/২৫ মন ধান পেতাম এবার চিটার জন্য সেখানে ৮ থেকে ১২ মন ধান পাব কি না নিয়ে সন্দেহ আছে। লাখাই উপজেলার কৃষক রফিক মিয়া জানান, দিন দিন খাল বিল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নদীগুলোতেও নেই তেমন পানি। যে কারণে বোরো মৌসুমে সেচ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। 

তিনি বলেন, সরকার যদি নদ, নদী ও খাল বিল খননের উদ্যোগ গ্রহন করতো তা হলে আমাদের এমন সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো না। তাই কৃষক রক্ষায় হাওর এলাকার এসব নদী নদী খননের দাবী জানান তিনি।

হবিগঞ্জ কৃষি সস্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক নয়ন মণি সূত্রধর জানান, বৃষ্টির অভাবে হাওরে কিছু ধানের ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়াও ২৮ জাতের ধানসহ বেশ কিছু ধানে মাঝে মধ্যে চিটা দেখা যাচ্ছে। তবে এতে বড় ধরণের কোন ক্ষতি হবে না। 

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে সিলেট থেকে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হবিগঞ্জে এসেছিলেন। আমরা তাদেরকে নিয়ে মাঠ পরিদর্শন করেছি এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।